Kaustav Ghosh

Feminism এর মানে বুঝতে বেশির ভাগ মেয়েরা ভাবে নিরীহ পুরুষ দের উপর অত্যাচার করা এবং আইনের থেকে বিভিন্ন সুযোগ নেওয়া। এটা অস্বীকার ও করার জায়গা নেই যে তারা বেশি অত্যাচারিত বলেই হয়তো সব রকমের আইনী সহায়তা পায়।
নারীবাদ নারীবাদ বলতে বলতে যারা শুধু সারাদিন পুরুষ দের গাল দেয় তারা কিছু জিনিস ভুলে যায়। যদি সব নারীরা একে অপরের পাশে বিপদে আপদে থাকতো তাহলে নারীবাদ বলে আলাদা নতুন মতবাদ তৈরির দরকার হতো না।
নারীদের উপর কোনো অত্যাচার হলে সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ ও পুরুষ করে, করে এসেছে। সেটার সবচেয়ে বড় উদাহরণ গণপরিবহনে লেডিস কামরা।এছাড়া এই সমাজে পুরুষরা নিঃশব্দ সৈনিক, তাদের কান্নার বা কষ্ট পাওয়ার অধিকার নেই। একদিকে নারীরা সমান অধিকার চায় নারীবাদের নামে, কিন্তু তার সাথে স্পেশাল ট্রিটমেন্ট /সুবিধা চায়।
নারী পুরুষ সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা বলতে অনেকে বোঝে কিছু পুরুষ দের মত স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ। কিন্তু যে কোনো স্বেচ্ছাচারিতা খারাপ সে যেই করুক। নিয়ন্ত্রণ বিহীন জীবন সব শেষ করে দেয়, সেটা ছেলে মেয়ে দেখে না।
নারীবাদের ভুল অবমূল্যায়নের জন্য আজ পুরুষবাদ তৈরি হয়েছে, শুরু হয়েছে সেই আন্দোলন ও। একটা ভুল কে ঠিক করতে আরেকটা ভুল। যেমন একটা জাতিগত বা ধর্মীয় উগ্রবাদ কে আটকাতে আরো ধর্মীয় বা জাতিগত উগ্রবাদ তৈরি হয়। না নারীবাদ না পুরুষবাদ। শুধু মানবতাবাদ। শত সহস্র বছর ধরে মেয়েরা অত্যাচারিত আমরা জানি, কিন্তু পুরুষ দের সাথে হওয়া অন্যায় গুলো চোখে পড়ে না কারোর। এই সংসার টা শুধু নারীদের ত্যাগের উপর চলে না, পুরুষ দের অনেক ত্যাগ থাকে। মায়ের দিকটা সমাজ, শাস্ত্র গ্লোরিফাই করুক, কিন্তু বাবার ক্ষেত্র টা আজও নিঃশব্দ। কারন শুধু যেন ছেলেদের কর্তব্য সেই ছোট থেকে শুরু হয় ও চিতাতে গিয়ে শেষ হয়। বাবার নিঃশব্দ লড়াই টা তাই কোনো সাহিত্যিক বা সমাজের কলমে ওঠে না। কারন মানুষ এর তৈরি এই সমাজ না নারীকে কোনোদিন মানুষ ভেবেছে না পুরুষ কে। একজন কে রূপ দিয়ে অন্যকে পয়সার মানদণ্ড দিয়ে মেপেছে। মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠা করতে গেলে সবচেয়ে আগে লিঙ্গ নিরপেক্ষ আইন, বিশেষ সুবিধা ত্যাগ করতে হবে। তবেই সমাজ সংস্কার ও পরিবর্তন শুরু হবে।

Leave a Reply