এক কাল্পনিক কথোপকথন

কৌস্তভ ঘোষ

স্যার একটু কথা ছিল, একটু সময় দেবেন?
“কেমন আছিস, অনেকদিন পর দেখা।”
জীবনে হেরে গেছি স্যার। সে আমার জীবন থেকে চলে গেছে।
“আমার ছাত্র ছাত্রীরা হারতে পারে না। আমি হারতে দেবো না।”
সব তো শেষ হয়ে গেছে। সে তো বেঁচে নেই।
“সে বেঁচে আছে, তোর স্মৃতিতে সে বেঁচে থাকবে। তোকে এগোতে দেখে, তোকে স্বপ্ন পূরণ করতে দেখে সে বেঁচে থাকবে। তোকে হারতে দেখলে সে হেরে যাবে। তোদের ভালবাসা হেরে যাবে। তোকে জিততে হবে বাবু।”
কিন্তু কি করে? আমি কি পারবো? হেরে গেছি।

“তোর স্যার তোদের কাউকে হারতে দেবে না এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে বেরিয়ে এসেছিল। এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে সে পেশাতে ঢুকেছিল। কে বলেছে তুই একা। মনে করে দেখ, যখন আমি তোদের পড়তাম তখন এক এক করে সব কিছু হারিয়ে ফেলার খবর গুলো পেতাম। আমিও হার স্বীকার করে বসে থাকতে পারতাম। মনে করে দেখ তোরা সবাই কি কি বলেছিলি? তোরা আমায় শক্তি দিয়েছিলি ঘুরে দাঁড়ানোর।

তোদের কারো হাত আমি ছাড়বো না কোনোদিন। তোকে দাঁড়াতে হবে, সেই স্বপ্ন গুলো যেটা ওর সাথে দেখেছিলি সেই স্বপ্ন গুলো পূরণ করবার অপেক্ষা।

চোখ খুলে দেখ, সমাজ তোর অপেক্ষায় বসে আছে। নিজের দিকে তাকিয়ে দেখ, কত শক্তি তোর মধ্যে। ওর ভালোবাসার মর্যাদা সেই স্বপ্ন গুলো পূরণেই হবে। তোকে আইনজীবী হতে হবে।

শুনতে পাস কি সেই কান্না গুলো? কত মানুষ বিচার পায়নি আজও। চল, একসাথে লড়ি, সেই চোখের জলের হিসাব গুলো দি। নতুন করে সমাজ গড়ে তুলি। আজও মনে পড়ে জানিস ওর কথা, ও তোর কথা বলতো।

জানিস স্কুল জীবনে আমার দিদিকে, কলেজ জীবনে আমি আমার এক বন্ধু কে হারিয়েছিলাম। হঠাৎ। কিন্তু হেরে যাইনি। সেই লড়াই আজ ও জারি যে কারণে সে মৃত্যু বরণ করেছিল সেই কারন নির্মূল করতে। চল কিছু করে দেখাই। ওর জন্য, ওর মত করে। আমি নিজে ছেলে, ছেলেরা শুধু ভালবাসলে তার জন্য ইমোশনাল হয়। তুই শক্তি, তুই মেয়ে। নিজেকে চেন, তোকে ছাড়া শিব ও শব। সে তোর কাজের মাধ্যমে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তুই হারিয়ে যাস নি। শুধু লড়াই শুরু করলি।”


স্যার পারবো তো?


“তুই পারবি, তোকে পারতেই হবে। তুই না পারলে আর কেউ পারবে না। তুই পারবি পারবি পারবি।”

Leave a Reply

Discover more from LAWET

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading