Kaustav Ghosh


আজ কলেজ থেকে ছাত্র ছাত্রী দের পড়িয়ে বাড়ি ফিরছি বর্ধমান মেইন লোকালে। প্রথম কামরাতে উঠে একটু এগিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সিনিয়র সিটিজেন এর সীটে একজন বয়স্ক রেল এর স্টাফ, একজন বয়স্ক হিন্দিভাষী পুরোহিত, একজন তিনিও বয়স্ক অফিস থেকে ফিরছিলেন। আমি ওনাদের সামনে ফাঁকা জায়গাতে গিয়ে দাঁড়ালাম। দেখে অবাক হলাম ওই রেল এর স্টাফ মুসলিম বলে তার জামা ওই পুরোহিত এর গায়ে ঠেকবার জন্য পুরোহিত মশাই চিৎকার ও অসভ্যতামি শুরু করে দিয়েছেন। যথারীতি কেউ প্রতিবাদ করেনি। কিন্ত আমি আইনজ্ঞ ও আইনের প্রফেসর হিসাবে চুপ থাকতে পারিনি। কারন আমি সর্ব প্রথম আমি মানুষ, দ্বিতীয়ত হিন্দু ধর্ম কে গভীর ভাবে পড়েছি, তৃতীয়ত আধ্যাত্মিক জগতের সাথে ছোট থেকে যুক্ত। এছাড়া আমি চাইনা দেশ এর বাইরে কোথাও যদি যাই সেখানে আমি হিন্দু বা ব্রাউন বলে আমার সাথে কেউ এই ব্যবহার করুক।
ওই মুসলিম ভদ্রলোক কে গীতার তিনটি শ্লোক শোনালাম-
১)গীতার ১৮ অধ্যায় এর ৪২ তম শ্লোক যা বলছে প্রকৃত ব্রাহ্মণ কে –
“শমঃ দমঃ তপঃ শৌচং ক্ষান্তিঃ আর্জবমেব চ।
জ্ঞানং বিজ্ঞানমাস্তিক্যং ব্রাহ্মকর্ম স্বভাবজম্॥”
মানে -মন-সংযম (শম), ইন্দ্রিয়-সংযম (দম), তপস্যা (তপঃ), পবিত্রতা (শৌচ), সহিষ্ণুতা (ক্ষান্তি), সরলতা (আর্জব), জ্ঞান (জ্ঞান), অনুভূত জ্ঞান বা প্রজ্ঞা (বিজ্ঞান), এবং ঈশ্বরে বিশ্বাস (আস্তিক্য) — এই গুণগুলি ব্রাহ্মণের স্বভাবজাত কর্ম।
২)”চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ।
তস্য কর্তারমপি মা বিদ্ধ্যकर्तারমব্যয়ম্॥”
গীতা চতুর্থ অধ্যায় শ্লোক ১৩
মানে – ভগবান গুণ ও কর্ম অনুসারে চতুর্বর্ণ ব্যবস্থা সৃষ্টি করেছেন।
৩) “দুঃখেষু অনুদ্বিগ্নমনাঃ সুখেষু বিগতস্পৃহঃ। বীতরাগভয়ক্রোধঃ স্থিতধীর্মুনিরুচ্যতে”।
গীতা দ্বিতীয় অধ্যায় শ্লোক ৫৬
মানে – সুখ দুঃখ তে সমভাবাপন্ন, রাগ ভয় ক্রোধ থেকে যারা মুক্ত তারা স্থিতপ্রজ্ঞ, তারাই প্রকৃত ব্রহ্মের অনুসরণকারী।
ব্রাহ্মণ কথার আরেকটা মানে হলো যিনি ব্রহ্মের অনুসরন করছেন।
এসব শুনে ওই পুরোহিত মশাই কিছু বলতে পারেন নি, নেমে যান ট্রেন থেকে। ওই বাঙালি মানুষটার সাথে যে ধর্মে মুসলিম তার সাথে একসাথে বাড়ি ফিরলাম। উনি অন্য স্টপেজে বাসে করে নেমে গেলেন গন্তব্যের দিকে। এই বার্তা টা দেওয়ার দরকার ছিল দুজনকেই
হিন্দু মুসলিম একসাথে দুই ভাইয়ের মত থাকবে, সে এই দেশ বা রাজ্যে ঝড় যতই চলুক।
আমি নিজে হিন্দু বা মুসলিম ছাত্র ছাত্রী দের পড়িয়ে এটাই বুঝেছি প্রকৃত মানুষ হলে, মনুষত্ব কে পাথেয় না করে চললে না হওয়া যায় হিন্দু না মুসলিম। জিহাদ বলুক বা গীতা তে কৃষ্ণ এর অর্জুন কে যুদ্ধ করার বার্তা সেটা শুধু ন্যায়ের হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে। সে যুদ্ধ সিলেক্টিভ না।


Leave a Reply