কৌস্তভ ঘোষ
মায়া সভ্যতা ছিল, হয়তো তাদের চিহ্ন আজ ও আছে। মায়া তন্ত্র আছে। গোটা সৃষ্টি যোগমায়ার মায়াতে আবদ্ধ। তাই মায়া কাটিয়ে বেরোতে না পেরে ছটফট করে জীব। কিন্তু বুকের পাটা তাদের আছে যারা এই মায়া তত্ত্ব কে শিখতে চায়, জানতে চায়। এটা তারা জানে কত বড় ঝুঁকি আছে তার জীবনে অতলে তলিয়ে যাবার।
এই মায়া কে মহাপ্রভু ব্যবহার করেন তার লীলায়। মায়াপতি তিনি, তবু গীতার ভাষ্যে আমরা শুনি মায়াকে নিজের অধীনে করে যুগে যুগে ফেরেন বারবার।মায়ার ওপার থেকে এপারে আসেন আমাদের প্রতি মায়া করে। মায়ার বাঁধনে প্রকৃত আমি কে হারিয়ে, প্রকৃত আমি কে ভুলে সে নকল আমি কে খুঁজে বেড়ায়। মা শব্দটা কত গভীর, তাতে “য়া” যুক্ত হয়ে তল খুঁজে পাওয়া যায় না।
কেউ কারোর চোখের মায়াতে পড়ে, কেউ কারোর মায়াতে বন্দী হয়ে যায় চির জীবন বা জন্ম জন্ম। যত ভাববে জড়াবো না, ততো জড়িয়ে পড়ে যেভাবে জালে মাছ জড়িয়ে পড়ে।
তাহলে উপায় কি?
শুধু নিজের কর্মে অবিচল থেকে লোক কল্যাণ চিন্তা তে মন কে স্থির রাখা। কারো খারাপ বা দীর্ঘশ্বাসের কারন না হওয়া। নিষ্কাম কর্মে ব্রতী থাকা। আজ যদি ফল না ও পাওয়া যায় কর্ম অনুযায়ী তবে ধৈর্য্য ধরে কর্ম ত্যাগ না করে নিজেকে আরও ভালো কিছুর জন্য প্রস্তুত রাখা। আজকের ভাষায় আপগ্রেড, আপস্কিল। নিত্য নতুন জিনিস শেখা মনের জানালা খুলে রেখে। উপনিষদের মুনিরা তাই বোধহয় বলেছিলেন চরৈবেতি।


Leave a Reply