কৌস্তভ ঘোষ

কালী মা কে মৃত্যুরূপা বলা হয়, যার পূজা করলে মৃত্যু ভয় থাকে না। মৃত্যুই হলো প্রথম ও অন্তিম সত্য। মৃত্যুই নতুন করে সুযোগ করে দেয়, মুক্তির উদ্দেশ্যে। মৃত্যুই মায়াবদ্ধ জীবকে আয়না দেখায়। আরো বেশি করে দেখায় আমার মত দার্শনিক মানুষদের রাত এর বেলা।
বাড়িতে মৃত্যু মিছিল গুলো সেগুলো নিয়ে বেশি করে ভাবায়। মৃত্যু কে আমরা গ্রহন না করলেও মৃত্যু গ্রাস করে। জীবন যখন তার উদ্দেশ্য খুঁজে পায়, তখন মৃত্যুকে পার করে ফেলে।
প্রভু, তুমি যদি তাই চাও, তবে তাই হোক। আমার নিজের মৃত্যু ভয় কে তোমায় সঁপে দিলাম, আজকের এই আগুনে ঝাঁপ দেবো বলে। তুমি আমার বলিপ্রিয়া, তার মানে আজকে সত্যিকারের খুঁজে পেলাম। উনি কি বলি চান ও সন্তুষ্ট হোন তা জেনে গেলেই মুক্তি। নিজের মুক্তি, পরিবারের মুক্তি।
এই মুক্তি হাজার হাজার বছরের তপস্যার চেয়েও সহজ। আজ মনে পড়ছে গুরু মহারাজদের কথা। তাদের ভবিষ্যত বাণী গুলোর কথা। যে মানুষগুলো আমায় প্রতিটা মুহূর্ত অনুভব করাতো আমি আলাদা, আমি অদ্ভুত, আমি অযোগ্য তাদের ধন্যবাদ। তাঁরাই আজকের এই মানুষটা কে তৈরি করতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
আজকের এই মৃত্যুর সাথে কথপোকথন মনে করিয়ে দিচ্ছে কঠোপনিষদের চিরঞ্জিত ও যম রাজের কথা। মনে পড়ছে মহাভারতে যুধিষ্ঠির ও যক্ষ(যম) এর কথপোকথন।
আজ আমার নবজন্মের দিন, দরজার ওপারে গিয়ে ফিরে আসার দিন। ভেতরের অদ্ভুতুড়ে মানুষকে চেনার দিন। শুধু প্রার্থনা যেন কোনো আক্ষেপ, দীর্ঘশ্বাস বা না পাওয়া যেন মুক্তির দরজা বন্ধ করতে পারে।


Leave a Reply