কৌস্তভ ঘোষ
কোন্নগর বাটার মোর থেকে মাহেশের জগন্নাথ মন্দির। জি টি রোড বরাবর রাস্তা টা যেটা চলে যাচ্ছে এই রাস্তা আমার জীবনের খুব খুব সুন্দর মুহূর্তের সাক্ষী। অনেক জোয়ার ভাটা, হাসি কান্নার সাক্ষী। একটা অন্য এবং আরো ভালো মানুষ হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা এই রাস্তা। বরাবরের যে খাদ্য রসিক না তার খাদ্য ও তার স্বাদ নিয়ে গবেষণা করার শুরুর সাক্ষী এই কোন্নগরের গঙ্গার ধারে এই রাস্তা।
বাটার মোড়ে অন্নপূর্ণা মন্দিরের পাশের পান খেতে অনেক দূর থেকে আসা যায়। একটা সময় দাওয়াত রেস্টুরেন্ট থেকে খেতাম যেটা এখন বন্ধ। কোন্নগর এ সোনামা বিরিয়ানি দোকানে বিরিয়ানি খেতাম, ওরা জানতো আমার প্রিয় মাংসের পিস, তার উল্টোদিকের দোকানের ঝাল মুড়ি, তার মত ঝাল মুড়ি আর কাউকে বানাতে দেখি নি। এই ঝাল মুড়ির সাথে বালি স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ৩০ টাকার স্পেশাল কাসুন্দি সস দেওয়া মুড়ির তুলনা করা যেতে পারে। কোন্নগর কে তবু এগিয়ে রাখবো।
মিষ্টির দোকানের ক্ষেত্রে হয়তো বাটার মোড়ে রাজবল্লভী সুইটস এগিয়ে, তবু আন্তরিকতায় অরবিন্দ রোডের মনীন্দ্র সুইটস এগিয়ে। যেখানে সকাল ১০ টা এর পর গেলে কচুরি পাওয়া মুশকিল। যদিও পড়ে সিঙ্গারা বা গুজরাটি খাবার পাওয়া যায়।
তার সাথে হাবুদার আদা দিয়ে স্পেশাল চা, বাটার লঞ্চ ঘাটে স্পেশাল দুধ চা তো আছেই। বিকাল ৫টা হলে বাটার মোড়ে গেলেই বম্ব চপ।
কত কত স্মৃতি, বিশেষত যখন বুঝি শিক্ষক হবার সিদ্ধান্ত কত টা সঠিক ছিল। এত ভালো ভালো ছাত্র ছাত্রী পাওয়া টা সৌভাগ্য। জীবনটা নয়তো অসম্পূর্ণ থেকে যেতো, এত অনুপ্রেরণা পেতাম না প্রতিদিন আরো বেটার মানুষ, আরো বেটার ছাত্র হয়ে ওঠার যাতে খুব ভালো শিক্ষক হয়ে উঠতে পারি। নিজেকে আরও বেশি করে চিনতে জানতে পারি। যা আমি কোনোদিন পাইনি সেটা যেন ওদের বিলিয়ে দিতে পারি। ওদের জীবনে সত্যিকারের “বন্ধু, পথপ্রদর্শক, অনুপ্রেরণা” হয়ে ওঠার চেষ্টা জারি।
ধন্যবাদ Rintu Mukherjee কে লাঞ্চ স্কিপ করে এতটা সময় আমায় দেবার জন্য, ধন্যবাদ Kankana Biswas কে আইস ক্রিম ট্রিট দেবার জন্য। অর্ঘ্য দাস , Arjun Kasundi অনেক ভালোবাসা। Trishita Roy ধন্যবাদ আমায় দেখে ছুটে এলি দেখা করতে ভালো লাগলো। শেষ পাতে মিষ্টির মত @sinjan কে ধন্যবাদ। তোর বাড়ি ফেরার সময় ভালো ঘোরা হলো।
আজকের বিশেষ দিনটা আরো বিশেষ করে তোলার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। তোদের আন্তরিকতা, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আমায় বারবার কোন্নগর নিয়ে আসে।
যেখানে মানুষ গাইড এর অভাবে রাস্তা হারিয়ে ফেলে, খুঁজতে থাকে সেরকম কোনো মানুষ এই শহর আমায় দুইজন গাইড দিয়েছে, নীলোৎপল স্যার ও বিনয় স্যার। একটা স্নেহময়ী সত্যিকারের নিজের বোন প্রিয়াঙ্কা ম্যাডাম এই শহরেরই।
এই শহর আমায় নিজেকে ভালবাসতে শিখিয়েছে;খেলা ধূলার প্রতি ভালোবাসা ছিলোই আগে, তার দিকে আরো অগ্রসর করিয়েছে। মনে পড়ে এই শহরে ফুটবল খেলার কথা, তার সাথে সাথে কমন রুমে ক্যারম ও টেবিল টেনিস খেলার।
কোন্নগর অনেক স্মৃতির শহর, এই শহরের প্রথমবার নাম শুনি ক্লাস টু তে স্মৃতি আন্টির কাছে। উনি মনসাতলা লেন থেকে আসতেন। তাই আরো স্মৃতির শহর।









Leave a Reply