আমি কে?

কৌস্তভ ঘোষ

আমি কে?

মানুষ বড়ই অদ্ভুত,
তাই না।
ততই সে বাস করে এই অদ্ভুত সংসারে।
খালি হাতে আসে,
কাউকে না চিনে, না জানে।
তবু সে করে আমার আমার আমার।
সূক্ষ্ম এক জালে জড়িয়ে পড়ে,
যতই গভীরে যেতে থাকে
ততই পড়ে সে পঞ্চভূত এর দুর্বিপাকে।

এত আমার আমার করে।
কখনও সে তো জানতে চায় না –
আমি কি, আমি কে?
আমি বলতে সে বোঝে শুধু এই শরীর।
কিন্তু এই শরীর টা তো থাকে না।সব আমি কি শেষ হয়ে যায়।যদি শেষ হয় তাহলে আমি কিসের?

কেউ তো বলে আজ মনুষ্য কাল পশুর শরীরও পেতে পারে, পেতে পারে কীটপতঙ্গের শরীর।
সেখানে কি আমি থাকে?
সেখানে আমি কতটুকু পরে থাকে?


শাস্ত্রেই বলে –
শৃন্বন্তু বিশ্বে অমৃতস্য পুত্রা আ যে ধামানি দিব্যানি তস্থূ।

এর মানে আমি সেই অমৃতের সন্তান। সেই অমৃত স্বরূপ পরম ব্রহ্মের সন্তান, তার থেকেই সৃষ্ট। তিনি পরমাত্মা, তার থেকে সেই সৃষ্ট একটি আত্মা আমি।

গীতায় বলেছে যে সমস্ত শরীরে ব্যাপ্ত সেই হলো অব্যয় আত্মা। তাঁকে না পুড়িয়ে দগ্ধ করে ফেলা যায়, না তাঁকে জলে সিক্ত করা যায়। সে অস্ত্র দ্বারা ছেদিত হয় না।

ক্লাস এইটে পড়েছিলাম শক্তির নিত্যতা সূত্র। শক্তির রূপান্তরের মত আত্মা ও বিবিধ সময়ে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে প্রবেশ করে। সে ও পরমাত্মার মত অবিনাশী।

মৃত্যু?
সে তো শরীরের হয়। স্থুলদেহের বাইরে সে বেঁচে থাকে নতুন ভাবে।

শাস্ত্রে বলে –
অহং ব্রহ্মস্মি।
আমি সেই ব্রহ্ম। ঠিক বীজগণিতের অংকের মত মিলে যাওয়া। সে যখন বুঝে যায় আত্মার মধ্যে পরমআত্মার সব গুণাবলী বিদ্যমান সেই কারণে সে ও স্বাভাবিক ভাবেই ব্রহ্ম স্বরূপ।

আচ্ছা শুধু কি তাই? কিছু কি বাদ চলে যাচ্ছে??

যতদিন এই আমি শরীরের আমি এর আমিত্ব তে ডুবে থাকি, এই শরীর কে ব্যবহার করে সত্যিকারের আমি কে জানার চেষ্টা করি না ততদিন সত্যিকারের আমি কে ভুলে থাকি। তাঁকে চিনতে পারি না। ভুলে যাই সেই আমি, আমি সে।

সেই শরীরের আমি এর আমিত্ব শরীর যখন ত্যাগ করে তখন ই আত্মদর্শন হয়।
তখন সে তাঁকে নিজের ভেতর দেখে, তখন সে তাঁকে যত্র তত্র সর্বত্র দেখে।  তাঁর মধ্যে নিজেকে দেখে।

আমরা শুধু স্বর্গ মর্ত নরকের ঘেরাটোপে আটকে গিয়ে শুধু ফিরে আসার টিকিট কাটি। এর অতিরিক্ত কিছু ভাবতে পারিনা, এত অল্পতে সন্তুষ্ট হতে হলে মনুষ্য জন্মের দরকার কিসের।

এটাও ভুলে যাই মানুষের তথা জীবের জীবন নিজের (শরীর সুখ) জন্য নরকের পরিনত করলে তাঁর কৃপা লাভ হয় না। যেখানে তাঁর কৃপা নেই সেখানে কিসের স্বর্গ?

আমার অন্তরে ঘুমিয়ে থাকা শক্তিটাই আমি, সেটাই আত্মা। সেটাকে বুঝতে পারা আত্মদর্শন। এভাবেই সে নিজে আত্মা তে স্থিত হয়ে নিশ্চল ব্রহ্মেতে স্থিত হয়। যেখানে , সাকার নিরাকার একাকার হয়ে যায় সেখানে যুক্তি,তর্ক, বুদ্ধি, চক্ষুর কি সাধ্য পৌঁছানোর।
তাহলে আর দেরি কিসের, আত্মারূপ বাহনে চড়ে যাত্রা শুরু করি?

Leave a Reply

Discover more from LAWET

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading