মহারসায়ন

সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ

আমার সংসারে তুই কেন কর্ত্তৃত্ব করতে আসিস?
স্হির হয়ে যা,স্হির হয়ে নাম কর, তোর ভালোমন্দ যোগক্ষেম সব আমি বহন করব। পদে পদে আমি তোকে দেখাচ্ছি, স্হির হলে শান্তি পাবি,তথাপি তুই ছুটতে চাস্।

তুই স্হির হয়ে বসে পড়্, আমি তোর সংসারযাত্রা নির্বাহ করবো।
ওরে তোর আমিত্বের বোঝাটা আমায় দিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে যা, কর্ত্তৃত্বাভিমান ত্যাগ করলেই সমস্ত ভার আমি গ্রহণ করে থাকি।


ওগো! আমি যে পারি না—কর্ত্তৃত্বের অভিমান যে ত্যাগ করতে পারি না। কি হবে—আমার কি কোন উপায় নেই?


তাই বলছি, নাম কর্। আধিব্যাধি, শোকতাপ, জ্বালাযন্ত্রণা——আমার স্মরণে, আমার নাম-কীর্ত্তনে সব অবসান হবে, আমার নাম কর।
আমি যে ভক্তিহীন—আমি নাম করলে তুমি শুনবে? আমার কি পাপক্ষয় হবে?
ওরে নামে ভক্তি আনবে। শোন—

“গোবিন্দেতি তথা প্রোক্তং ভক্ত্যা বা ভক্তিবর্জ্জিতৈঃ।
দহতে সর্ব্বপাপানি যুগান্তাগ্নিরিবোত্থিতঃ।। ”— স্কন্দপুরাণ

আমার নামের শক্তি ভক্তির অপেক্ষা করে না! যুগান্তকালের অগ্নি যেমন ব্রহ্মাণ্ড ধ্বংস করে, সেইরূপ আমার নামরূপ অগ্নি কোটি কোটি জন্মের পুঞ্জীভূত কলুষরাশি নিঃশেষে দগ্ধ করে। পাপী ! আমি তোর আছি— মাভৈঃ।
কি আশার কথা, কি অভয় আশ্বাস ! বড় মিষ্ট—বড় মিষ্ট—আমার তুমি আছ? আঃ! বুকটা যেন হালকা হয়ে গেল।
ওরে পাপী! তোর আর ভয় নাই—বল্  হরিবোল! হরিবোল! হরিবোল !!!

“মহারসায়ন”
শ্রীশ্রীঠাকুর সীতারামদাস ওঙ্কারনাথদেব

Leave a Reply

Discover more from LAWET

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading