Kaustav Ghosh
বাংলার, বাঙালির অত্যন্ত নিজের রাম, সে বাড়ির দায়িত্বপূর্ণ বড় ছেলে। তাঁর জীবন যাপন আজও তার কুল ও দেশের কাছে আদর্শ। তাঁর সিক্স প্যাক নেই, হাতে নেই কোনো অস্ত্র। তাঁর চরিত্র ও মুখ মণ্ডলে রাগের রেশ মাত্র নেই। তাঁর পূজাতে ও তাই অস্ত্র মিছিল না, শুধু শুদ্ধ ভক্তি ও শরণাগতির প্রয়োজন।
সে যেন রামকৃষ্ণের ভাষায় আপনার চেয়ে ও অতি আপনার। উনি সেই বড়দা যে না চাইতেই সবকিছু দিয়ে দেয়। যাকে ভয় ও করে, কিন্তু যার সাথে নিজের সব কিছু গোপন তথ্য ভাগ করে নেওয়া যায়। যার সাথে সব ভাগ না করে থাকা যায় না। তিনি সব জেনেও মন দিয়ে শুনে সঠিক দিশা দেখান। তিনি বাবা মা তথা বাড়ির বড়দের সাথে ছোটদের সেতুর মত।
তাঁরা মিথ্যা তথা মেকি ধর্ম নিরপেক্ষ যারা বলে বাংলার সাথে রাম এর সম্পর্ক নেই। অনেক বাঙালির তথা আমার বাড়ির কুলদেবতা শ্রী রাম ও তাঁর নামে নিজের সন্তান দের নাম করন করতেন। কৃত্তিবাস রামায়ন এই বাংলার। ষড়ভুজ রুপে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর যে রূপ আমরা দেখি সেখানে বংশীবদন শ্রী কৃষ্ণ ও ধনুক ধারী রাম কে ও দেখতে পাই। যে রাম, সেই কৃষ্ণ দুইয়ে মিলে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ। এছাড়া ও রামায়ণের অনেক উদাহরণ এই বাংলার আনাচে কানাচে দেখি। বাংলার রাম শান্ত ও শান্তির বার্তা বয়ে আনে। এখানেই তফাৎ বাকিদের সাথে।
দক্ষিণ ভারতে ভদ্রাচলমে তাঁর কোলে সীতা ও পাশে লক্ষ্মণ। প্রতিটা রাজ্য ও জাতির উপাসনার নিজস্ব ধারা আছে। কিন্তু আত্মবিশ্বাসহীন জাতি দের শুধু প্রয়োজন হয় নিজের সব ভুলে অন্যের অন্ধ অনুকরন, সে তাই মেতে থাকে নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদে। যে বাঙালি গোটা পৃথিবী কে শিখিয়েছে জানিয়েছে হিন্দু ধর্ম কি তাকে এখন ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে নিজেকে ভারতীয় ও সত্যিকারের হিন্দু প্রমাণ করতে।
এই রাম নবমীতে শ্রী রামচন্দ্রের কাছে শুধু এই প্রার্থনা হে প্রভু বাঙালি কে শক্তি দাও ও তাঁকে নিজের ভাগ্য নিজে গরার জন্য আত্ম বিশ্বাসী গড়ে তোলো।









Leave a Reply