কৌস্তুভ ঘোষ





ডুব না দিলে রত্ন ভান্ডারের সন্ধান পাওয়া যায় না-
সে ভক্তি হোক বা বিদ্যা।
রামকৃষ্ণ দেবের ভাষায় যারা খানদানি চাষি।
তাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙ্গে না।
যাদের হারানোর ভয় নেই, হেরে যাবার ভয় নেই।
তাই তাদের মন মুখ এক-
তারা ডুব দিতে ভয় পায় না।
শুধু তারাই পায় রত্ন ভান্ডারের সন্ধান।
কবিগুরু তাই বলেছেন সে যে সীমার মাঝে অসীম হয়ে জাগায় আপন সুর।
নিজেকে সীমায় বেঁধে রাখলে অসীমের সাথে যে জোড়া যায় না।
সাহস করে গভীরে নামতে হয় আরো।
এই সুযোগ পেয়ে গেলাম কলেজে পড়াতে গিয়ে।
পেয়ে গেলাম রত্ন ভান্ডারের সন্ধান।
কোথায়?
কলেজের ওই যে কচি কাঁচারা-
ওদের মাঝে, ওদের বোঝাতে গিয়ে, ওদের বুঝতে গিয়ে।
আরো ডুব দিলাম সেই বিদ্যার সাগরে।
সেই অভূতপূর্ব ধনসম্পত্তি যা কোনদিন ফুরাবে না।
কত কি শিখলাম, কত কিছু শেখালো ওরা সবাই।
ওদের জন্য আরো বেশি করে হয়ে উঠতে থাকলাম মানুষের মত মানুষ।
খোঁজ পেলাম সেই নীল পদ্মের যা পৌরাণিক যুগ থেকেই বিরল,
খোঁজ পেলাম আরো এক প্রিয় মানুষের যে জীবনের কঠিন অঙ্ক কত সহজে শেখায়।
শিক্ষক জীবনের আশীর্বাদ এই সব শিক্ষা-
সংস্কৃত শিক্ষার সময়ে পড়েছিলাম বিদ্যার সমান ধণ নেই।
বিদ্যা সেই ধন তা বাড়তে থাকে শুধু দিতে পারলে।
সব শেষ হয়ে যায় কালের গ্রাসে,
এই রত্নের কোনো শেষ নেই।
শেষে ওই কবিতার আশ্রয় নি-
“ডুব ডুব ডুব ডুব সাগরে দিয়ে আমার মন,
তলাতল খুঁজলে অতল পাবি রে তুই রত্ন ধন।”


Leave a Reply