ভক্তের ভগবান

Sitaramdas omkarnath

ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণের প্রয়োজন কি?
দেখ্, সকলের রুচি ত সমান নয়। কেহ আমার বাঁশরীবয়ান দেখতে চায়—তাই তাদের প্রীতির জন্য যমুনাপুলিনে কদম্বতলে বাঁশরীকরে শ্যামসুন্দর সেজে রাধা রাধা ব’লে বংশীধ্বনি করি। আবার কেহ কেহ যুগলরূপ দেখতে চায়—তাদের জন্য এক আমি রাধাকৃষ্ণ হয়ে তাদের আনন্দ বর্দ্ধন করে থাকি। কেহ আমায় ধনুর্ব্বাণধারী দেখতে ভালবাসে—তাই তাদের জন্য রামরূপ ধারণ করেছি। কোন ভক্ত নৃমুণ্ডমালিনী লোলরসনা গলিতবসনা ভীষনা কালিকামূর্ত্তি দেখতে চায়—সেইজন্য আমি কালী হয়ে লীলা করি। কেহ বা বাঘাম্বরধারী নাগরাজহারী ত্রিপুরারি-রূপে আমায় দেখতে চায়—আমি তাই হয়ে যাই।
কেহ মা বলে সন্তুষ্ট হয়—আমি তার মা হয়ে কোলে লই। কেহ সখা ব’লে আমায় বাহুবন্ধনে বাঁধতে চায়—আমি সখা হয়ে তার বাহুপাশে বাঁধা থাকি। কেহ দাস হয়ে সেবা করতে চায়—আমি তার কাছে প্রভু হয়ে সেবা লই। কেহ স্বামী ব’লে আমায় জীবন যৌবন অর্পণ করে—আমি তার জীবনের নাথ হই। আমার কোন স্বাধীনতা নাই।

অহং ভক্তপরাধীনো হ্যস্বতন্ত্র ইহ দ্বিজ।
সাধুভির্গ্রস্তহৃদয়ো ভক্তৈর্ভক্তজনপ্রিয়ঃ। ।

আমি ভক্তের অধীন, ভক্ত আমার হৃদয়ের ধন। ভক্ত যেমন রাখে আমি তেমন থাকি। ভক্ত যা বলে ডাকে আমি তাই হয়ে যাই।
অহো, ভক্তের এত শক্তি ! আমায় ব’লে দাও কেমন করে ভক্ত হতে পারি—ব’লে দাও!
তাই বলছি—নাম কর্। আমি গুরুরূপে তোকে যে নাম শিখিয়েছি—তুই অনিবার সেই নাম কর্।

শ্রীশ্রীঠাকুর সীতারামদাস ওঙ্কারনাথদেব

Leave a Reply

Discover more from LAWET

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading