কৌস্তভ ঘোষ

“সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে”
আগে সুখী গৃহকোণ বলে একটি প্রচ্ছদ প্রকাশিত হতো। আর এই বহুল প্রচারিত প্রবাদটার ব্যাপারে আমার আপনার মত যে কোনো বাঙালি ছোটবেলা থেকে খুব পরিচিত। বাঙালি হিন্দু যৌথ পরিবারে থাকার ও মানুষ হবার এবং একাধিক ভাষাভাষী মানুষের সাথে এক পাড়াতে থাকার সুবাদে অনেক কম বয়স থেকে সং দের এই সংসার নিয়ে সামাজিক গবেষণা করার ইচ্ছা টা কে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছি। সেই কম বয়স থেকে দাদা দিদির বিয়ে গুলো উৎরে দিয়েছি। নিজে আমার বংশের সবচেয়ে ছোট ও মিলেনিয়াল দের মধ্যে আমি শেষ। অনেক গুলো জেনারেশন কে একসাথে দেখেছি। আজকে যাদের সর্বোত্তম প্রজন্ম(greatest generation) বলা হয় তাদের খুব কাছ থেকে পেয়েছি, শিখেছি। যেমন দাদু ও তার বন্ধুরা। এরপর silent generation এর আমার ঠাকুমা, বড় মাসি, জেঠু দের পেয়েছি। এরপর baby boomer generation এর বাবা মা, কাকা, মামা, মাসি দের। তারপর generation X, millenial এর দাদা দিদি। আমি নিজে millenial। তারপর ভাইপো, ভাইঝি, আমার ছাত্র, ছাত্রী দের মত gen z। বন্ধু দেয় বিয়ে ও সন্তান জন্মের সময় কাছে থেকে পাশে দাঁড়িয়েছি। তারা জেনারেশন alpha। Generational shift গুলো খুব observe করতাম। যৌথ পরিবার থেকে নিউক্লিয়ার পরিবারের যে যাত্রা টা।
আজ কিছু কথা তাই ভাবলাম একটু ভাগ করে নি। শুভ রাখী পূর্ণিমা প্রথমেই জানাই আমার পাঠক দের। আমি একজন আইনের ছাত্র, কলেজে পড়ানো আমার পেশা ও নেশা। তার সাথে বহু বছর কোর্টে আইনজীবী হিসাবে কাজ ও করেছি। মানুষের সাথেই আমাদের কাজ। অনেকের সংসার ভাঙ্গা গড়ার সাক্ষী।
একটু পক্ষে আলোচনা করা দরকার। সংসার রমনীর গুণেই সুখী হয় কারন নারী দের একমাত্র সেই শক্তি আছে সমাজ, সভ্যতা কে ধারন ও পালন করার। সে নিজে শক্তি, স্বয়ং কে সম্পূর্ণ করতে পারে। সেই ভবিষ্যতের জননী। মেয়েরা জন্ম থেকে divine feminine energy যুক্ত, সেটা সে স্বেচ্ছায় সুপ্ত করে রাখে নয়তো বিকশিত করে। সংসার কে সুখী করা তার ছাড়া আর কারোর ক্ষমতা নেই। একটা সময় যদিও working women ছিল না, আজ প্রায় বেশিরভাগ। তখন হয়তো এটা অনেক ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল।
এবার এর বিরুদ্ধে বলতে হলে বলতেই হয় সংসার দুজনের যখন দায়টা দুজনের হওয়া উচিত। কেউ একতরফা কিছু কি করতে পারবে? একতরফা কোনো পক্ষের পক্ষে শুধু adjustment, compromise করে চলা সম্ভব তথা সমীচীন নয়।
সংসার বলুন বা ভগবান খেয়াল করে দেখবেন পুরোনো শাস্ত্রে মা কে বাবার এবং স্বর্গের থেকে উচ্চ স্থানে রাখা হয়েছে। একটা সংসার কে চালাতে দুই পক্ষকে নিজেদের যোগদান দিতেই হয়। এক হাতে সংসার হোক তালি কোনোটাই বাজে না। একটা সন্তানের জীবনে বাবা মা দুজনকেই সমান ভাবে প্রয়োজন।
আমার মনে হয় সংসার সুখের হয় স্বামী স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি বোঝাপড়া, বিশ্বাস, ভরসা, ভালবাসা, সত্যিকারের ঝড় ঝাপটা তে পাশে থাকার গুণে। সংসার সুখের হয় এটা ভেবে যে স্বামী স্ত্রী নিজেরা নিজেদের সমস্যা সমাধান করতে পারবে, অন্য হাজার জনকে যত বেশি জড়িয়ে ফেলবে ততই সমস্যা বাড়বে। বাবা মা তার নিজের ছেলে বা মেয়ের ভালো চায়, তারা চাক বা না চাক অনেক সময় প্রয়োজনের সময় সঠিক রাস্তা না দেখিয়ে নিজেরা বেশি involve হয়ে যায়, manipulation করে তাদের vulnerability এর। তখন তারা শুধু নিজেদের ছেলে বা মেয়ের ভালো চাইতে গিয়ে ক্ষতি করে ফেলে বেশি। হিন্দু শাস্ত্র মতে দুটি মানুষ বিয়ের পর এক হৃদয় এক শরীর এক আত্মা। তাদের বেদ মন্ত্র দ্বারা অগ্নি, শালিগ্রাম শ্রী নারায়ন কে সাক্ষী রেখে বিয়ে করেছে। তাঁর reverse/withdrawal সম্ভব নয়। তাই ডিভোর্স কনসেপ্ট ছিল না হিন্দু ধর্মে। মুসলিম গোটা পৃথিবীকে এই ধারনার সাথে অবগত করায়। একটা সম্পর্ক যেটা ঠিক হবার না বা কোন একটি পক্ষের নিরবতার জন্য যে সম্পর্ক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত তার থেকে মুক্তির জন্য এটা আনা হয়। এটাকে তাই “necessary evil” হিসাবে বলা হয়েছে। কিন্তু আজ এত কিছু অপশন এর ভিড়ে তাই কেউ সম্পর্ক টা শুরু করতে যতটা effort দেয়, সম্পর্ক তে জড়িয়ে গেলে সেইটা হারিয়ে যায় কোনো এক কানাগলিতে।
তাই আমি জোর দিয়ে বলি সম্পর্ক দুজনের সংসার দুজনের। তাই দুজনের সম্পর্ক টা কে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রয়াস না থাকলে সেটা সুখের হবে না।


Leave a Reply