Kaustav Ghosh
ছোটো বেলাতে প্রবন্ধ আসতো টিভি/ বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ। তারপর আসতে আসতে এলো নিত্য নতুন উন্নত ফোন। সমাজে প্রবেশ ঘটলো সোশ্যাল মিডিয়ার।
তারপর এলো ২০১০ এর দশক। শুরুর দিকে সেটা ছিল অনেক দূরের বন্ধু দের সাথে যোগাযোগ পুনঃস্থাপন এর মাধ্যম কারণ ফোন আর মেসেজ ছিল খুব দামী।
তারপর শুরু হলো সরল সুদে স্ট্যাটাস কেনার প্রচলন। শুরু হলো কে কত সুখী তা দেখানোর আর অন্য কে যে কোনো চেনা অচেনা কে নোংরা ভাষায় ট্রোল বা আক্রমন। ছোটবেলায় শুনতাম শিখতাম শালা বলা টা খারাপ ছেলের লক্ষন।আর তারপর তো webseries, lockdown গালাগালি, অন্য কাউকে অপমান করাটাকে শিল্পে পরিনত করলো। শুরু হলো প্রতিযোগিতা। গালাগালি দিয়ে কনটেন্ট, যে যত নিচে নামতে পারবে তার ততোধিক যশ, খ্যাতি ও টাকা।
আসলে কেউ সুখী না, যার জীবনে সুখ নেই তারাও দুখী। অন্যের জীবনে সুখ দেখে তারাও দুখী। কষ্ট পেতে দেখলে তাই পৈশাচিক আনন্দে মানুষ মসগুল হয়।
তারপর এলো রাজনীতির কারবারিরা। সোশ্যাল মিডিয়া হয়ে গেলো নতুন রাজনীতির যুদ্ধক্ষেত্র। জ্বলতে থাকলো ভাষা, জাত, ধর্মের নামে সংকীর্ণ এক দাবানল। ফেক নিউজ এর সূত্র ধরে শুরু হলো একে অপরকে অবিশ্বাস করা, সেটা হত্যা করতেও দ্বিধা বোধ হলো না।
যেন এক অদৃশ্য মগজধোলাই যন্ত্র তৈরি হয়েছে।
সিনেমাতে দেখতাম জম্বি মহাপ্রলয়। যেখানে মানুষের ব্রেইন কাজ করবে না, নরমাল মানুষ দের মেরে ফেলবে।
আসল জীবনে সেটাই তো হচ্ছে। মহাপ্রলয় এসে গেছে, কেউ দেখতে পাচ্ছে না। কেউ বা দেখতে পাচ্ছে না। যারা দেখতে পাচ্ছে না প্রলয় থামাতে চাইছে তারা কিছুই করে উঠতে পারছে না।
তবে কি কিছু করা যাবে না??
হ্যাঁ যাবে।
ভবিষ্যত প্রজন্ম কে এই ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে হবে, তাদের পাশে গাইড হিসাবে, বন্ধু হয়ে থেকে। যাতে এই ছোঁয়াচে রোগ আর কারো না হয়। তার সাথে ভারতীয় যোগ শাস্ত্রের সাথে সংযোগ স্থাপন, আধ্যাত্মিকতা, ধ্যান, সংযম শিক্ষা। আমাদের বুকে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর আগুন জ্বালাতে হবে। আমাদের মধ্যে থেকে তিনি ফিরবেন ঘরে ঘরে।
“নব আনন্দে জাগো আজই নবকিরণে”।


Leave a Reply